নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে লিবিয়াকে বলেছে বাংলাদেশ
লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিজদাহ-তে গুলি করে ২৬ বাংলাদেশি হত্যার ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য লিবিয়া সরকারকে বলেছে বাংলাদেশ।
শুক্রবার বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "ইতোমধ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস লিবিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পুরো ঘটনার তদন্তসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার, দোষীদের যথাযথ শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্যও অনুরোধ জানিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে, লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিজদাহের সুরক্ষা বিভাগকে অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং তাদের বিচারের আওতায় আনার জন্য সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস দ্রুততম সময়ে আহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থা, মানব পাচারে জড়িতদের বিবরণ এবং লিবিয়ান সরকার কর্তৃক এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবে।"
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাগণ মিজদাহ হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এছাড়া, মৃতদেহসমূহ মিজদাহ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন। আহতদেরকে পরবর্তীতে দূতাবাসের সহায়তায় উন্নততর চিকিৎসার জন্য ত্রিপোলিতে অবস্থিত বিভিন্ন হাসপাতালে আনা হয়েছে।"
সেখানে আরও বলা হয়, "গুরুতর আহত তিনজনের শরীর হতে গুলি বের করার জন্য অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস লিবিয়ার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং আইওএম লিবিয়ার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং তারা আহত ব্যক্তিদের জন্য সম্ভাব্য সহায়তা প্রদান করছেন। মিশনের কর্মকর্তাগণ আহতদের কাছ থেকে ঘটনার বিশদ বিবরণসহ নিহতদের পরিচয় জানার চেষ্টা করছেন। এ মর্মান্তিক যটনায় মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের সুচিকিৎসার নিশ্চিতকরণে দূতাবাসকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা প্রদান করেছেন।"
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে (২৮ মে) লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিজদাহ-তে (ত্রিপলি হতে ১৮০ কি.মি. দক্ষিণে) কমপক্ষে ২৬ জন বাংলাদেশিকে লিবিয়ান মিলিশিয়া কর্তৃক গুলি করে হত্যা করা হয়।
লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের অনুসন্ধানে জানা যায়, লিবিয়ার মিলিশিয়া বাহিনী অপহরণকৃত বাংলাদেশিদের উপর এলোপাতাড়ি গুলি চালালে আনুমানিক ২৬ জন বাংলাদেশি ঘটনাস্থলে নিহত হন। আক্রান্তদের মধ্যে সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যাওয়া এক বাংলাদেশির সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হলে তিনি জানান যে, তিনি একজন লিবিয়ানের আশ্রয়ে আত্মগোপনে আছেন।
তিনি দূতাবাসকে আরো জানান যে, ১৫ দিন পূর্বে বেনগাজী থেকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে কাজের সন্ধানে মানবপাচারকারীরা এ সকল বাংলাদেশিকে ত্রিপোলিতে নিয়ে আসার পথে তিনিসহ মোট ৩৮ জন বাংলাদেশী মিজদাহ শহরে নিকট লিবিয়ান মিলিশিয়া বাহিনীর একদল দুষ্কৃতকারীর হাতে জিম্মি হন। মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যে জিম্মিকারীকর্তৃক অমানবিক নির্যাতনের একপর্যায়ে অপহৃত ব্যক্তিবর্গদ্বারা মূল অপহরণকারী লিবিয়ান নিহত হয়। এর প্রতিশোধ নিতে লিবিয়ান মিলিশিয়া বাহিনী তাদের উপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে যাতে আনুমানিক ২৬ জন বাংলাদেশি নিহত হয় এবং আরও ১১জন বাংলাদেশি হাতে-পায়ে, বুকে-পিঠে গুলিবিদ্ধ হন।