বাজেটে স্থানীয় আইটি কোম্পানির সুবিধা স্পষ্ট করা হয়নি: বেসিস ভাইস প্রেসিডেন্ট
বাজেটে স্থানীয় আইটি কোম্পানিকে দেয়া সুবিধাগুলো স্পষ্ট না করার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা বিকাশ কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মুশফিকুর রহমান। রোববার দ্য বিজনসে স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে একথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, লোকাল মার্কেট, লোকাল সফটওয়্যার এপ্লিকেশন অথবা বিদ্যমান অবকাঠামো অনুযায়ী যেখানে লোকাল কোম্পানিগুলো কাজ করবে, তার জন্য কতটুকু বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বাজেটে তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি।
"আমরা গত কয়েক বছর ধরে পরিকল্পনা, অর্থ ও আইটি মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে যাচ্ছি, কীভাবে আরএফপি'র খসড়া করা যায়। যেখানে লোকাল কোম্পানির অংশগ্রহণ খুব জরুরি। এখানেসুষম প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে," বলেন তিনি।
স্থানীয় কোম্পানিগুলোর ওপর বিভিন্ন শর্তারোপ করলে নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি হবে বলে জানান তিনি।
"আপনি যদি একটি কাজের জন্যে লোকাল কোনো কোম্পানিকে শর্ত দিয়ে দেন আরও দুটি দেশে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, তাহলে তো দেশি কোম্পানি এমনিতেই ছিটকে পড়বে,"
এছাড়া কোনো কোম্পানির এই অভিজ্ঞতা থাকলেও, কাজ করানোর জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগ না দিয়ে স্থানীয় অন্যান্য কোম্পানিগুলোকেসাব-কন্ট্রাকটিংয়ে কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায় বাজেটে তার প্রতিফলন থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাজেটে আইটি প্রশিক্ষণ ও ইন্টারনেট সার্ভিসের উল্লেখ নেই বলে জানান তিনি। "ইন্টারনেট সার্ভিসে ১৫ শতাংশ কর রয়েছে। আবার আইটি প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে রয়েছে ২৭ শতাংশ। এখানে কস্ট ইমপ্লিকেশন আছে, বাজেটে তা উল্লেখ করা হয়নি।"
বাজেটে ৯৫ হাজার কোটি টাকা শিক্ষাখাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এক বছর তিন চার মাস হতে চলল, কিন্তু ডিজিটাল ডিভাইসের কারনে প্রন্তিক পর্যায়ের স্কুল শিক্ষার্থীরা এর সম্পূর্ণ বাইরে। তার মানে অটোমেশন যে হবে, এই বাজেটে তার কোনো দিক-নির্দেশনা কিন্তু আমরা এখনো পাইনি।"
"এমএফএস সার্ভিসের মাধ্যমে যত বেশি ক্যাশলেস সোসাইটিতে আমরা যাবো, তত বেশি অর্থ পাচারের বিষয়গুলো কমে আসবে এবং করের আওতা বাড়বে,"
সরকারকে প্রাণোদনা দেওয়ার জন্য বলেছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, "সেটা তো দেওয়া হয়নি বরং কর বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এটি বাধার সৃষ্টি করবে,"
সিটিজেন সার্ভিস এবং গভমেন্ট এপ্লিকেশনে সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রে প্রচুর কাজ করার সুযোগ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব জায়গাগুলো ঢেলে সাজাতে হবে।
"সেই সাথে সামনে ৫জি আসছে, অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে।"
বেসিসের এই কর্মকর্তা বলেন, "আমার কিন্তু গত তিন বছর ধরে বলছি, আমাদের যেহেতু অনেক ফরেন রিজার্ভ আছে, ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হোক। দেশি কোম্পানিগুলো যদি বাইরে যায়, তারা সহজেই ঋণের বন্দোবস্ত করতে পারবে।"
"আইটি খাতে আমরা আরও ২৫ শতাংশ নারীকে সম্পৃক্ত করতে চাই। এক্ষেত্রে আমরা ৩০০ কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়েছিলাম। সেটাও এখনো ঠিকভাবে দেওয়া হয়নি। সহজ শর্তে ঋণ চেয়েছিলাম তাও আমরা পাইনি। এগুলো যদি করা হয় তাহলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমাণে আমরা সফলতার দিকে এগিয়ে যাব।"
এবার বাজেটে আইটি খাতের কিছু বিষয়ে সহযোগিতা দেওয়া দেয়া হয়েছে। ক্লাউড সার্ভিস, ই-লার্নিং প্লাটফর্ম, ই-বুক পাবলিকেশন, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস, ওআইটি এবং ফ্রিল্যান্সিং-এ ২০২৪ সাল পর্যন্ত কর মওকুফের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।
এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উল্লেখ করে একারণে সরকার সাধুবাদ পাওযার যোগ্য বলে মনে করেন তিনি।