সিআরবি ধ্বংসের চক্রান্ত রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান
মহান মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) জিএস ও তিন মুক্তিযোদ্ধসহ ১০ জন শহীদের কবরস্থান গুড়িয়ে চট্টগ্রামের সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ চেষ্টার প্রতিবাদে রাজধানীতে সংহতি সমাবেশ করা হয়েছে।
আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত ওই সংহতি সমাবেশে শত বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ও 'চট্টগ্রামের ফুসফুস'খ্যাত সিআরবি ধ্বংসের চক্রান্ত রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ইউনাইটেড গ্রুপের সঙ্গে রেলওয়ের হাসপাতাল নির্মাণ চুক্তি বাতিল করার দাবি তোলা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্লাস্টিক সার্জন ডা. বিজয় কৃষ্ণ দাম। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সিআরবি রক্ষা মঞ্চ চট্টগ্রামের সমন্বয়কারী ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান, বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাসদ নেতা কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম, রেলওয়ে শ্রমিক নেতা রেজানুর রহমান খান, শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. ফরহাদ মঞ্জুর, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ইনচার্জ নিখিল দাস, বাংলাদেশ উদীচী শিল্প গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন, বাসদ (মার্কসবাদী) ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী ফখরুদ্দিন কবির আতিক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সভাপতি ছাত্রনেতা আল কাদেরী জয়, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত প্রমুখ।
সংহতি সভা পরিচালনা করেন রেলপরিবারের সন্তান মো. জসীম উদ্দিন। সংহতি সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন খালেকুজ্জমান লিপন, মহিন উদ্দিন, রাজিয়া সুলতানা দীপা, জাহেদ চৌধুরী মিঠু, এম সাহাদাৎ নবী খোকা, সাইদুল হক খন্দকার, সৈয়দা পরভীন, নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, শত বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ও 'চট্টগ্রামের ফুসফুস'খ্যাত সিআরবি এলাকা ধ্বংস করে বাণিজ্যিক বেসরকারি হাসপাতাল নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। সিআরবি আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের প্রধান কার্যালয়, ১৯৭১ সালের চাকসুর জিএসসহ ১০ জন শহীদের কবরস্থান, নববর্ষসহ সাংস্কৃতিক কার্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু, চট্টগ্রাম মহানগরীর মানুষের শ্বাস নেওয়ার উন্মুক্ত স্থান। প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিআরবিতে পিপিপির নামে অত্যান্ত গোপনীয় কায়দায় ৫০-৬০ কোটি টাকার বিনিময়ে রেলওয়ে হাসপাতালসহ ৬০০ শতক রেলভূমি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড গ্রুপকে লিজ দেওয়ার মাধ্যমে ধ্বংস করার আয়োজন চলছে বলে অভিযোগ তোলেন বক্তারা।
তারা আরও বলেন, লিজের চুক্তিতে রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকা দেখিয়ে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, ১০০ আসনের মেডিকেল কলেজ, ৫০ আসনের নাসিং ইনস্টিটিউটসহ স্বাস্থ্যখাত সম্পর্কিত আরও প্রতিষ্ঠান গড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এখানে একটি হেলিপ্যাড নির্মাণের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। এভাবে রেলওয়ে হাসপাতালটি ননহ্যারিটেজ এলাকা দেখিয়ে পুরো রেলের জায়গাকে আত্মসাৎ করার এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।
বক্তারা বলেন, 'আমরা ইউনাইটেডসহ যেকোনো হাসপাতাল নির্মাণের পক্ষে, কিন্তু সিআরবি ধ্বংস করে ওই স্থানে নয়।' তারা সিআরবি রক্ষায় সকল মুক্তিযোদ্ধা, রেলকর্মচারী, চট্টগ্রামবাসী, ছাত্র, শ্রমিক, সাংস্কৃতিককর্মী ও রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।