আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানোর ঘোষণা অস্ট্রেলিয়ার
আগামী বছর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী গ্রহণের পরিমাণ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) দেশটির সরকার এক ঘোষণায় জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তারা মোট ২ লাখ ৭০ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী গ্রহণ করবে। খবর বিবিসির
এর কারণ হিসেবে সরকার জানিয়েছে, সামগ্রিক অভিবাসীর সংখ্যা করোনা-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সীমা বেধে দিচ্ছেন তারা। দেশটিতে বিদ্যমান রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসীর কারণে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই ভাড়া বৃদ্ধির হারে লাগাম টানতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের সর্বাধিক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী গ্রহণকারী দেশগুলোর একটি। তবে করোনার পর থেকে কয়েকবার দেশটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও কর্মী কমানোর কথা বলেছে। এবারের পদক্ষেপটি এই সিদ্ধান্তের ফলাফল।
দেশটির সরকার আরও জানিয়েছে, প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী গ্রহণের সীমা বেধে দেওয়া হবে। তবে সবচেয়ে কমানো হবে বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মীদের সংখ্যা।
২০২৪ সালের প্রথম দিকের সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ৭ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জেসন ক্লেয়ার বলেন, এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কোভিড -১৯ এর আগের তুলনায় ১০ শতাংশ এবং বেসরকারি বৃত্তিমূলক এবং প্রশিক্ষণ কর্মীদের সংখ্যা ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা ১ লাখ ৪৫ হাজারে নামিয়ে আনা হবে, এই সংখ্যা ২০২৩ সালের কাছাকাছি থাকবে।
ক্লেয়ার আরও বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নন-ইউনিভার্সিটি উচ্চশিক্ষা প্রদানকারীরা ৩০ হাজার নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে। অন্যদিকে, বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো মোট ৯৫ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে।
তিনি বলেন, এই বিধিনিষেধ অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড অভিবাসন মোকাবিলায় সহায়তা করবে। অতিরিক্ত অভিবাসনের কারণে বিদ্যমান আবাসন ও অবকাঠামোগত সংকটে চাপ সৃষ্টি পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, 'আমরা নানা সংস্কার চালিয়ে যাচ্ছি। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদরে জন্য আরও ভালো এবং ন্যায্য পরিবেশের জন্যই সংস্কারগুলো করা হয়েছে। এখনকার সিদ্ধান্তটি এ কাজকে আরও টেকসই পদক্ষেপ হিসেবে এগিয়ে নেবে।'
সরকার এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যূনতম ইংরেজি ভাষার বাধ্যবাধকতা কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে এবং দ্বিতীয়বার শিক্ষা ভিসার জন্য আবেদনকারীদের বিষয়টি আরও যাচাই-বাছাই করার ঘোষণা দিয়েছে।
২০২২-২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার অবদান ছিল ৩৬.৪ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (১৮.৭ বিলিয়ন পাউন্ড, ২৪.৭ ডলার)।
সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চালু করা অর্থনৈতিক মডেলিং অনুসারে, প্রস্তাবিত কাটছাঁটের ফলে অস্ট্রেলিয়ান অর্থনীতি ৪.১ বিলিয়ন ডলার হারাতে পারে এবং ২০২৫ সালে প্রায় ২২ হাজার মানুষ চাকরি হারাতে পারে।
এদিকে, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এই পদক্ষেপকে 'অর্থনৈতিক ধ্বংসপ্রবণতা' বলে অভিহিত করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সংস্থার প্রধান নির্বাহী ভিকি থমসন প্রস্তাবিত আইনগুলিকে 'কঠোর' এবং 'কর্তৃত্ববাদী' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তবে অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষামন্ত্রী ক্লেয়ার বলেছেন, 'এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবে আন্তর্জাতিক শিক্ষাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, এমন ধারণা করা একেবারেই ভুল।'