পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছেছে চন্দ্রযান-২
সফল উৎক্ষেপণের পর পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছে গেছে চাঁদের উদ্দেশ্যে ভারত সরকারের পাঠানো মহাকাশযান চন্দ্রযান-২।
সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪৩ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ স্টেশন থেকে চন্দ্রযান-২-এর উৎক্ষেপণ হয়।
সফল এই উৎক্ষেপণের পর ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলে খবর আনন্দবাজারের।
এছাড়াও ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থেকে নেতা, বিশিষ্ট ব্যক্তি থেকে শুরু করে ইন্টারনেট দুনিয়ায় বহু সাধারণ মানুষও ইসরোর বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
গত সোমবার (১৫ জুলাই) স্থানীয় সময় ভোররাত ২টা ৫১ মিনিটে একই মহাকাশ স্টেশন থেকে চন্দ্রযান-২-এর উৎক্ষেপণের কথা ছিল।
কিন্তু রকেট ওড়ার ৫৬ মিনিট আগে প্রযুক্তিগত ত্রুটির জন্য শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে যায় চন্দ্রযান ২ -এর অভিযান। ইসরো থেকে তখন জানানো হয়েছিল, জিএসএলভি মার্ক থ্রি রকেটে জ্বালানি ভরার সময় গোলযোগ দেখা যায়।
মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই সেই ত্রুটি সারিয়ে আজ চাঁদে পা রাখতে চলেছে চন্দ্রযান-২।
এ বার এখনও পর্যন্ত সফল ভাবেই সব কিছু চলছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার বিজ্ঞানীরা। উৎক্ষেপণের ১৬ মিনিট পর চালু হয়েছে ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন। পৌঁছে গিয়েছে পৃথিবীর কক্ষপথেও।
চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পাড়ি দেবে চন্দ্রযান ২ যেখানে এর আগে কোনও দেশ যায়নি।
চন্দ্রযান ২-তে তিনটি ভাগ রয়েছে। এই তিনটি ভাগ হল অরবিটর, ল্যান্ডার ও রোভার। চাঁদের কক্ষপথে ঘুরতে সাহায্য করবে অরবিটর। চাঁদের মাটিতে নামাবে ল্যান্ডার। চাঁদে তথ্য সংগ্রহ করার কাজ করবে রোভার। জিএসএলভি মার্ক থ্রি রকেটে চেপে চাঁদে যাচ্ছে চন্দ্রযান ২।
ইসরোর তরফে টুইট করে জানানো হয়েছে, জিএসএলভি মার্ক থ্রি রকেটের মহড়া করা হয় রবিবার, যা সফল হয়েছে। মহড়া সফলের পরই চাঁদে পাড়ির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়।
এই রকেটের ওজন ৬৪০ টন, উচ্চতা ৪৪ মিটার, যা ১৫ তলা বাড়ির সমান।
ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা- ইসরো আরও জানায়, তাদের দ্বিতীয় এই চন্দ্রযানের জন্য অন্য যানের চেয়ে কম খরচ হয়েছে। ‘অ্যাভেঞ্জারস এন্ড গেম’ মুভির থেকেও কম হয়েছে এর খরচ। কারণ ছবিটি তৈরি হয়েছে প্রায় ৩৫ কোটি ডলারে। সেখানে দ্বিতীয় চন্দ্রযানের বাজেট মাত্র ১৪ কোটি ডলার।
২০০৮ সালে ভারত প্রথম চাঁদের উদ্দেশ্যে মহাকাশযান পাঠিয়েছিল। তখন চাঁদের কক্ষপথে গিয়েছিল চন্দ্রযান-১। সেবার পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহে থাকা হাইড্রক্সিল আয়নের খোঁজ পেয়েছিল এটি। কিন্তু এবারের অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল, চন্দ্রপৃষ্ঠের বালিকণায় থাকা খনিজ ও মৌল পদার্থ সম্বন্ধে জানা।
এ অভিযান সফল হলে ভারত হবে চন্দ্রজয়ী চতুর্থ দেশ। এর আগে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এ তালিকায় নিজেদের নাম লিখিয়েছে।
প্রসঙ্গত গত ২০ জুলাই অ্যাপোলো- ১১ ‘র বুকে চড়ে চাঁদে মানুষের প্রথম অভিযানের ৫০ বছর পালন করেছে পুরো বিশ্ব।