কারাগারে লেখক মুশতাকের মৃত্যু ছিল স্বাভাবিক: জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন
গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুতে গঠিত জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রদিবেদন জমা পড়েছে। গতকাল রোববার (৭ মার্চ) ওই প্রতিবেদন পেয়েছেন জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম। প্রতিবেদনে মুশতাকের 'মৃত্যু' স্বাভবিকভাবে হয়- বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসনের দুই সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্যরা ছিলেন; গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী এবং উম্মে হাবিবা ফারজানা। দ্বিতীয় দফার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার একদিন আগেই রোববার তারা ওই প্রতিবেদন জমা দেন।
এর আগে প্রথম দফায় তদন্তের জন্য নির্ধারিত দুই কর্মদিবস গত সোমবারেও তদন্ত শেষ না হওয়ায়; আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটিকে আরও পাঁচ কর্মদিবস সময় দেওয়া হয়েছিল।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, আমরা যতটুকু জেনেছি ২৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুশতাক আহমেদ বাথরুমে পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর আগে তার চিকিৎসায় কারো কোনো অবহেলা আছে কিনা- তা খতিয়ে দেখতে ২৬ ফেব্রুয়ারি অভ্যন্তরীণ এ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। প্রথমে তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য কর্মকর্তাদের দুই কর্মদিবস সময় দেয়া হলেও, প্রতিবেদন প্রস্তুত না হওয়ায় তাদের আরো পাঁচ কর্মদিবস সময় দেয়া হয়। দ্বিতীয় দফার সময় শেষ হওয়ার একদিন আগে, রোববার তারা তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ হলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের অনুরূপ। অর্থাৎ মুশতাকের মৃত্যু ছিল 'স্বাভাবিক'।
কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার গিয়াস উদ্দিন জানান, ২৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারাগারের ভেতরেই মুশতাক আহমেদ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে কারা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় তাকে। পরে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা ২০ মিনিটে মুশতাক আহমেদকে মৃত ঘোষণা করেন।
গত বছরের ৫ মে র্যাবের ওয়ারেন্ট অফিসার আবু বকর সিদ্দিক মুশতাক আহমেদ এবং কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে রমনা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় মামলা দায়ের করেন। সেদিনই রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকা থেকে মুশতাক এবং কিশোরকে ফেসবুকে সরকার বিরোধী পোস্ট করার দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর ৬ মে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এবং পরে ২৪ আগস্ট থেকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন এই লেখক।
২৬ ফেব্রুয়ারি ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে দুপুরে পুলিশ তার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। তিনি নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজার থানার ছোট বালাপুর এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।